বকশীগঞ্জ পল্লীবিুদ্যতের ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ইলেকট্রিশিয়ানদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বকশীগঞ্জ জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক অনুমোদিত ২০ জন ইলেক্টিশিয়ান শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ ডিজিএমের প্রত্যাক্ষ মদদে শহিদুল ইসলাম পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে দুর্নীতির রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাকে শাস্তিমূলক বদলির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে নামার হুমকিও দিয়েছেন ইলেক্টিশিয়ানরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম।
অভিযোগকারী ইলেক্টিশিয়ানরা জানান,যোগদানের পর থেকেই স্বে”ছাচারিতা,গ্রাহক হয়রানি,সেবা গ্রহীতাদের সাথে অসদাচরনসহ ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম। তার খাম খেয়ালী দাপটীয় আচরনে অতিষ্ট সাধারন গ্রাহকরা। ইঞ্জিনিয়ারের মনোনীত দালাল চক্রের দৌরাত্মসহ নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বিদ্যুৎ অফিস। দালাল চক্র বিদ্যুৎ সংযোগের নামে করছে মিটার, তার ও খুঁটি বাণিজ্য। অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বকশীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় এখন দুর্নীতির আখড়া।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কতৃক অনুমোদিত ইলেক্টিশিয়ান ফরিদ আহাম্মেদ,সাব্বির হোসেন সুমন,মনোয়ার হোসেন, আমির সিদ্দিকী,দেলোয়ার হোসেন,সুজন মিয়া,সেলিম মিয়া,নুর শহিদ,মাহমুদুর রহমান রুবেল,মেহেদী,মাওলানা আবদুর রউফ,সাইদুর রহমান,মাহাবুবুর রহমান,আবদুর রাজ্জাক,মাসুদ,আবদুল হাই,আবুল কালাম,হাসেম, হাকিম, সাজ্জাদ ও আল ইমরান জানান,নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করা হলে সেটি মাসের পর মাস ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকছে। শহিদুল ইসলামের মনোনীত দালাল চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা খরচ করলে সহজেই মিলছে মিটার, তার, খুঁটি ও সংযোগ। প্রতি সংযোগের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে সদস্য ফরম বাবদ ১০০ টাকা ও মিটার বাবদ ৬২০ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আদায় করা হচ্ছে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। আগে আবেদন করা গ্রাহকদের আগে সংযোগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছেনা। এছাড়া নতুন এলাকায় সংযোগ গ্রহনের ক্ষেত্রে হচ্ছে খুঁটি,তার ও মিটার বাণিজ্য। আমরা এর প্রতিকার চাই। প্রতিকার না হলে সকল কাজ কর্ম বন্ধ করে আন্দোলনে নামবো। তারা আরো বলেন,প্রতি সেচ সংযোগের জন্য জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার করে টাকা দিতে হয়। এছাড়াও কোন গ্রাহক যদি ¯স্থান পরিবর্তনের আবেদন করেন সেখানেও তাকে ঘুষ দিতে হয় মোটা অঙ্কের। লোড বৃদ্ধি ও ট্রান্সফরমার পরিবর্তনের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার,নতুন খুটি ¯স্থাপনের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিতে হয় তাকে।
বকশীগঞ্জ পৌরশহরের চরকাউরিয়া সীমারপাড় সংগ্রাম এন্ড রাফা রাইচ মিলের মালিক ফরিদ আহাম্মেদ রঞ্জু মিয়া বলেন,আমি একজন ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাহক। এক বছর আগে আমার রাইচ মিলের মটরটি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তারপর থেকে একটি বাল্বও ব্যবহার করিনাই। কিš‘ হঠাৎ আমার মিলের মিটার পরিবর্তন করে টু পার্ট মিটার লাগিয়ে দেন তিনি। আমি বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে সে আমার খারাপ আচরন করে এবং ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে পূর্বের মিটার ¯স্থাপন এবং না দিলে প্রতিমাসে মিনিমাম ৪ হাজার ৮শ টাকা বিদ্যুৎ বিল করার হুমকি দেন। তিনি আরো অভিযোগ করে জানান,পৌর শহরের মাঝপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আল ইমরানের একটি খুটি সরানোর জন্য আবেদন করা হয়। ৭২৭ নং স্বারক মূলে ১ হাজার ৭শ ২৫ টাকা জমা দেয়া হয়। এরপরেও শহিদুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা শহিদুল ইসলামকে দেই। কিন্তু এর পরেও তিনি কাজ না করে তালবাহনা করতে থাকেন এবং আরো টাকা দাবি করে আসছেন।
এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি এখন বাইরে আছি। তাছাড়া উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ছাড়া এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আপনি অফিসে গিয়ে ডিজিএম স্যারের সাথে কথা বলেন।
এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জয় প্রকাশ নন্দী জানান,এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। আসলে কোন মানুষ যাতে হয়রানি শিকার না হয় সেজন্যে আমিসহ সকল স্টাফ কাজ করে যাচ্ছি। দালালদের খপ্পরে পড়ে মানুষ যাতে হয়রানি না হয় এবং বকশীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কোন বদনাম না হয় সেই লক্ষেই কাজ করছি। তাছাড়া তারা কি কারনে এসব মনগড়া অভিযোগ করছেন তা বোধগম্য নয়। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here