বকশীগঞ্জে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের জামিন

মাসুদ উল হাসান ॥
বকশীগঞ্জে পৃথক পৃথক মামলায় জামিন পেয়েছেন নিলক্ষিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার ও সদর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এলবার্ট মিয়া। গত মঙ্গলবার সদর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এলবার্ট মিয়া ও বুধবার নিলাক্ষিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তারের জামিন মঞ্জুর করেন জামালপুরের বিজ্ঞ আদালত।
উল্লেখ্য স্ট্যাম্প জালিয়াতি মামলায় বকশীগঞ্জ সদর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জেল হাজতে ছিলেন।

জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন নজরুল ইসলাম সাত্তারের দ্বিতীয় স্ত্রী বকশীগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম।

মামলা সূত্রে জানা যায়,ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার ও জাহানারা বেগম দুজনেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনৈতিক সূত্র ধরে তাদের পরিচয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার রেজি: কাবিন মূলে প্রতিবেশি ধানুয়া কামালপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্বা আবুল হোসেনের মেয়ে জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন। বনিবনা না হওয়ায় জাহানারাকে তালাক দেন ইউপি চেয়ারম্যান সাত্তার। পরে জাহানারা বেগম জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে সাত্তার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর উভয় পক্ষ আপোষ মিমাংসা হয়ে চলতি বছরের ১৮ মার্চ রেজি: কাবিন মূলে আবারও জাহানারকে বিয়ে করেন নজরুল ইসলাম সাত্তার। দ্বিতীয় দফায় বিয়ের পর আবারো তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। পুনরায় গত ১১ অক্টোবর জাহানারাকে তালাক দেন ইউপি চেয়ারম্যান সাত্তার। গত ১৬ অক্টোবর জাহানারা বেগম স্বামী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে বকশীগঞ্জ সদর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা সূত্রে জানা যায়,তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বকশীগঞ্জ উপজেলার আইরমারী নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা আঃ ছামাদের ছেলে নুরুল ইসলামের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেন সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এলবাট মিয়া। কিন্তু সময় মত তিনি টাকা ফেরত দেননি। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এলবাট মিয়ার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। এই ঘটনায় গত ২৬ আগষ্ট জামালপুর আদালতে ৪০৬/৪২০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন নুরুল ইসলাম। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামীকে সমন জারি করেন। ১৩ অক্টোবর সমনের ধার্য্য তারিখে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here