বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মাসুদ উল হাসান ॥
বকশীগঞ্জের আলোকিত মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের পাখিমারা নিজ বাড়িতে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। সম্মাননা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার,বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন।

এ সময় আশরাফ হোসেনের ছোট ভাই বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাইয়ুম,উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকদার,জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন,পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর,উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সওদাগর,উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ফখরুজ্জামান মতিন, অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মন্টু, অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক,শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবদুল হামিদ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তার নামাজে জানাযায় অংশ গ্রহন করেন।
উল্লেখ্য ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ও বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোফাখ্খার হোসেন খোকনের পিতা সাবেক প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন (৮৩) বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যু কালে স্ত্রী, ৪ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

জানা যায়, অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন ১৯৩৭ সালে পৌর শহরের পাখিমারা সরকার বাড়ি এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি,১৯৬০ সালে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে আই এ, ১৯৬২ সালে বিএ এবং ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৫৮ সালে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (বর্তমান জামালপুর-১) থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। এছাড়াও ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here