বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর ॥ স্ত্রীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আবদুস সাত্তার জিহাদী ॥ বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও মারধরের শিকার অসহায় শহিদুল ইসলাম ন্যায় বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ্য হয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আমলী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। আদালত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা আছে কিনা এবং ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ প্রদান করেছেন। শহিদুলের বাড়িঘরে প্রতিক্ষের হামলার একটি ভিডিও ইন্টার ও মুঠোফোনে ভাইরাল হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাবেন এমনটাই প্রত্যাশা অসহায় শহিদুল ও তার পরিবারের।
অভিযোগে জানাগেছে,রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মৃত নছের আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম গত প্রায় ৭ বছর পূর্বে ভালবেসে বিয়ে করেন একই গ্রামের মহর আলীর মেয়ে মর্জিনা খাতুনকে। কিন্তু ওই বিয়েতে মর্জিনার পরিবার রাজি ছিলোনা। এতে করে মর্জিনার পরিবার ওই বিয়ে মেনে নেয়নি। এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য তৎপরতা চালায় মর্জিনার পরিবার। ওই সময় থেকেই দুই পরিবারে শত্রুতা চলিয়া অসিতেছে। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল শুক্রবার মর্জিনার ভাই তার মায়ের অসুস্থ্যতার কথা বলে মর্জিনাকে নিতে শহিদুলের বাড়িতে যায়। এরপর শহিদুল বাড়ির বাইরে থেকে এসে মর্জিনাকে নিয়ে যেতে নিষেধ করে। এক পর্যায়ে উপস্থিত বিবাদীদের সাথে শহিদুলের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিবাদীগন শহিদুলের উপর চড়াও হয়ে মারধোর এবং বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এই ঘটনা। এক পর্যায়ে শহিদুলের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মর্জিনার সহযোগীতায় বিবাদীগন ওয়ার্ডড্রপের ভিতরে থাকা ৬ লাখ বিশ হাজার টাকা,১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন,২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ,১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের গহনা নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে রাজিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে নিরাপত্তার কথা বলিয়া শহিদুল ও তার বড় ভাই আবদুস সাত্তারকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরের দিন জি,আর ২৪/২০২০ মামলা রুজু করে শহিদুল ও আবদুস সাত্তারকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। এই ঘটনায় ন্যায় বিচারের আশায় স্ত্রী মর্জিনা খঅতুনসহ ২২ জনকে আসামী করে কুড়িগ্রাম বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আমলী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন অসহায় শহিদুল ইসলাম। আদালত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা আছে কিনা এবং ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ প্রদান করেছেন। এই মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেন,আজিবর রহমান,সুরুজ্জামান,গোলাম হোসেন,গাজিবুর রহমান,আইয়ুব আলী, মাইদুল ইসলাম,লাল মিয়া,আবুল কালাম আজাদ,মর্জিনা খাতুন,হেলাল উদ্দিন,হান্নান মিয়া,ফারুক হোসেন, আরিফুল ইসলাম, হাবিব, শামছুল হক,ওমেদ আলী,আশিক,মহর আলী,হারুন অর রশিদ,বাবুল হোসেন,আবুল হোসেন ও সুমন মিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here