মেয়র নজরুল, এ যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি

লেখক সুলতানুল আরেফীন আদিত্য।। নজরুল ইসলাম সওদাগর । তার নামের আগে পিছে কোন বিশেষণ দিতে হয়না । তার নামটাই যেন এক শক্তি । তার জীবনটায় যেন এক চ্যালেঞ্জ ! জীবনে চড়াই – উৎরাই পেরিয়ে মানুষকে চোখ দেখিয়ে দিলেন । নানা প্রতিকূলতায় পেরিয়ে তিনি আজ বকশীগঞ্জের প্রথম পৌর মেয়র । পৌর পিতা । বকশীগঞ্জের পৌর অভিভাবক । সবকিছুই যেন তার যোগ্যতার প্রাপ্তি ! তার জীবনের দিকে তাকালে কবি ফারুকী গালিবের বিখ্যাত কবিতা মনে পড়ে যায় । “পরাজয়ে ডরে না বীর , লড়ে যায় বীর।

আজ বলবো , কিছু না বলা কথা ! তখনো পৌর তফসিল ঘোষনা হয়নি । কর্মস্থল থেকে বাড়ি যাচ্ছি । পথিমধ্যে রিচার্জ করার জন্য সাঁকো ড্রাগ হাউজে নামলাম । ফোন নাম্বার টুকে দিচ্ছি । বুঝতে পারলাম , কেউ একজন পরম মমতায় কাঁধে হাত রাখলেন । মাথা ফিরাতেই দেখলাম , তিনি আর কেউ নন , একজন নজরুল ইসলাম সওদাগর । আগেই বলছি , তার নামে কোন বিশেষণ দিতে হয়না । আমি বললাম , আরে ভাই আপনি ? তিনি বললেন , দোয়া চাই ভাই । আর কিছু না । আমি কিছু বলার আগেই তিনি হাঁটা দিলেন । আমি তাঁকিয়ে আছি , চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি । একজন সম্ভাবনাময় মেয়র হেঁটে যাচ্ছেন । হয়তো তিনিই ইতিহাস গড়বেন । মন থেকে দোয়া আসলো মানুষটার জন্য । হ্যা , এই মানুষটা ইতিহাস গড়লেন । নানান চড়াই – উৎরাই , বাঁধা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি হলেন বকশীগঞ্জের পৌরসভার প্রথম পৌর মেয়র । হয়তো পৃথিবী যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন বকশীগঞ্জ পৌর সভা বেঁচে থাকবে । সময়ের কালক্ষেপণে এই পদে অনেকেই আসবে যাবে , তার নাম প্রথম লাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে প্রথম পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর । পাশেই ব্র্যাকেট দিয়ে লেখা থাকবে সময়কাল । এটাই বা কম কি !

কর্মীদের কাছে নজরুল সওদাগর একজন আস্থার নাম । যাদের বুকে ঠাঁই দেন তার বুকটা যেন হয় তাদের আশ্রয় । আর নজরুলের চোখে কর্মীরা যেন একেকটা ভাই । একেকটা কলিজা । কী অ্যাপ্রোচ তার , কি রিসিপশন , কি সরলতা ! এই মানুষটার পুরো দেহটাই যেন একটা কলিজা । যাদের বুকে টেনে নেন তারা যেন একেকজন তার হৃদয়ের বাসিন্দা । পুরো হৃদয়জুড়ে তাদের বিচরণ ।এই মানুষটাও জানেনা কতগুলো মানুষের মন জয় করেছেন তিনি ।
অথচ এই মানুষটা দায়িত্ব পাবার পর থেকে বিভিন্ন নিন্দুকের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন । তবুও অত্যন্ত ক্ষমাশীল এই মানুষটা নিন্দুকদের বুকে টেনে নেন । সকল ষড়যন্ত্র ঠান্ডা মাথায় সাফার করে আসছে । এখনো করছেন । ক্ষমাই যেন তার ক্ষমতা ।

বেশকিছুদিন ধরে অজানা এক সংকটের মুখে বকশীগঞ্জ । আমি এই মানুষটার কাছে চাইবো , এ সংকট যেন দ্রুত তার মাধ্যমেই সমাধান হয় । আমি আশাবাদী বকশীগঞ্জ পৌর এরিয়াতে এহেন সংকট কাটাতে যতটুকুন স্যাক্রিফাইস করা দরকার আপনি ততটুকুনই করবেন । আপনার অনেক কৃতৃত্ব বকশীগঞ্জবাসী মনে রাখছে , ভবিষৎ এ রাখবে । আমি চাই এ পাল্লা আরো ভারী হোক । সংকট কাটুক ।মেয়র নজরুল আরেকটা ইতিহাসের সাক্ষী হোক ।
হযরত আলী র. বলেছেন , প্রকৃত বীর পুরুষ তো সে যার মধ্যে ক্ষমার সক্ষমতা বিদ্যমান ।

গত বইমেলা শেষে নাইটে ঢাকা থেকে ফিরছিলাম , মার্তৃসদন মোড় ক্রস করছিলাম , তখন ভোর চারটা ছুঁইছুঁই । কিছুক্ষণের মধ্যেই ফজরের আজান পরবে ।
দেখলাম থানা রোডে নজরুল আসতাছে । রিকশাওয়ালাকে বললাম , এতো রাতে মেয়র বাইরে কেন ? প্রতিত্তুরে বললেন , পুলিশ একজনকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করছে । মেয়র হেইডারে
ছাড়াইয়া আনলো । আমি বললাম , ভাল কাজ করছে ।
রিকশাওয়ালা বললেন , এই মেয়রডা আসলেই ভাল মানুষ । রাত দুইটা নাই তিনটা নাই । যেমন তার সাবাশ , তেমনই দিলখোলা লোক । এই হাসপাতালে ছুটতাছে , মানুষ না খায়ে থাকলে খাবার দিয়ে আহে ঘরের দিয়েরো । আমার মুহে যে মাকস হেইডাও মেয়র দিছে । রিকশাওয়ালা আমার দিকে তাকালে মুখের মাস্কের ওপর মোবাইলের লাইট পরতেই , রাতের ঝাপসা অন্ধকারেও দেখতে পেলাম , মাস্কের ওপর কালো কালি দিয়ে লেখা , মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর ।

সবার কাছে অনুরোধ কেউ এখানে রাজনীতি টানবেন না ।আমি নিজেও কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না । আমি এখানে ব্যক্তি নজরুলকে নিয়ে আলোচনা করছি । একজন জনপ্রতিনিধির কথা বলছি , জাস্ট ।

এবার একজন প্রতিবাদী মেয়র নজরুল সম্পর্কে কিছু বলা যাক ।
অপরাধীদের চোখে মেয়র নজরুল একজন আতংক । সেদিন এক বিচারের মিটিংয়ে তিনি বলেই ফেললেন , বকশীগঞ্জের সাতটা ইউনিয়নে কোথাও কোন অবৈধ ব্যবসা নাই । একটা মাত্র ইউনিয়নে চলছে । আগে চলতো পিলার ব্যবসা । আর এখন চলছে অবৈধ ডলার ব্যবসা । মানুষরে মাইরে ধইরা টাকা কাইড়া নিয়ে ওরা আবার দান করে । কে কেমন পারো নিজের জমি বেচে দান করো ।
তারপর একজন দায়িত্বশীল মুরুব্বী কে বললেন , আপনি বিষয়টা দেখবেন কেন অবৈধ ডলার ব্যবসা হয় ? এর জন্য আমার যা যা সহযোগীতা করা দরকার আমি করবো । সেদিন আমার মনটা ভরে গেল , মনে মনে বললাম , এমন জনপ্রতিনিধিই তো চেয়েছিলাম । যে অন্যায়কে বলবে অন্যায় , ন্যায় কে বলবে ন্যায় । নজরুল ইসলাম সওদাগর ঠিক যেন তার ই প্রতিচ্ছবি । এমন প্রতিচ্ছবি
বকশীগঞ্জবাসীর জন্য ছাঁয়া হয়ে থাকুক । এই মানুষটার জন্য আমার জমানো ভালবাসা গুলো ঢেলে দিলাম । একজন কিংবদন্তি মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরের গল্প আজ এ পর্যন্তই । আবার হয়তো কখনো তাকে নিয়ে লিখবো । তার পদের সময়কাল আরও দীর্ঘ হোক । বারবার যেন এই মানুষটা মানুষের পাশে দাড়াতে পারে, আল্লাহ সেই তাওফিক দিন । কিছুদিন আগে তার মা গত হয়েছেন । আল্লাহ যেন তার মাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন । পরম করুনাময় তাকে নেক হায়াত দান করুক । সেই প্রার্থনায় …….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here