মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট

মতিন রহমান।। জামালপুর বকশীগঞ্জে মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট। বৃহস্পতিবার দিরাগত রাতে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালেবার্ওী গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী মেহের আলী (৫০) খুন হয়েছে। এ ঘটনায় স্ত্রী সুলতানা বেগম(৩৫)কে আটক করেছে পুলিশ। সুরতহাল শেষে লাশ থানায় আনার চেষ্টা করা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অশ্রুসজল হয়ে ওঠে উপস্থিত সকলের চোখ। গভীর রাত, করোনা পরিস্থিতি ও পুলিশের উপস্থিতির কারণে আশে পাশের এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। যান বাহনের কোন সুযোগ ছিলোনা। তাই কোন উপায় না পেয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট ও সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু নিজেই নিহত মেহের আলীর লাশ কাধেঁ তুলে নিয়ে থানায় আনার ব্যবস্থা করেন।

ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট (Shafiqul Islam Shamrat) তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে এই বিষয়ে বর্ণনায় লেখা পোস্ট করেন। নিম্নে পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ-

গত ১৮/০৬/২০২০ তারিখ রাত ২৩.২০ ঘটিকায় সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু মোবাইলে আমাকে জানান চর কামালের বাত্তি এলাকায় স্ত্রী কতৃক স্বামী হত্যার একটি ঘটনা ঘটেছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই আমি বিষয়টি মাননীয় পুলিশ সুপার জামালপুর জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম (বার) মহোদয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল মহোদয়কে অবহিত করি। মাননীয় পুলিশ সুপার আমাকে ও দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল মহোদয়কে কে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার নির্দেশ দেন। আমি ও সার্কেল স্যার দুইজনেই তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে রওনা দেই।কামালের বাত্তি বাজার হইতে গাড়ী দিয়ে সড়কপথে যাতায়াতের আর সুযোগ না থাকায় কাঁচা সড়কেই ২/৩ জন ফোর্স নিয়ে সার্কেল স্যার সহ পায়ে হেটেই রওনা হই। ইতোমধ্যে বৃষ্টির কারনে রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল থাকায় আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও দ্রুত পায়ে হাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অবশেষে রাত্র ০০.১৫ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত মহির এর বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু সহ কিছু লোকজনকে দেখতে পাই। সে সময় কামালের বাত্তি তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মিজানুর রহমান ও কয়েকজন বয়োজেষ্ঠ্য চৌকিদার কে সেখানে উপস্থিত ছিল। সেখানে মৃত মহির এর মেয়ের কান্না এবং ৮ বছর বয়সী ছেলের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। বিশেষ ৮ বছর বয়সী ছোট ছেলের বিলাপ ও তার বাবার মৃত্যু এবং মায়ের আটক হওয়া নিয়ে তার কথোপখথনে উপস্থিত সবাই অশ্রুসজল হয়ে পড়ে। আমি ও চেয়ারম্যান মহোদয় ছোট্ট ছেলেটিকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এবং তাদরেকে তার এক আত্মীয়ের কাছে রেখে চেয়ারম্যন সাহেব ও আমি তাদের কয়েকদিনের খাবার এর জন্য সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। ইতোমধ্যে মাননীয় পুলিশ সুপার জামালপুর জনাব দেলোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম (বার) মহোদয় ঘটনার বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য এবং মৃতের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একাধিকবার ফোন দিয়ে খোজ খবর নেন। মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করত আমরা আসামী এবং মৃতদেহ একটি মসজিদের খাটিয়া এনে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় খোলা মাঠের ভিতর দিয়ে রওনা হই। তখন রাত্র ০১.৩০ ঘটিকা। অনু ১৫ মিনিট হাটার পর মৃত হে বহনকারী গন ক্লান্ত হয়ে পড়লে সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু ,আমি এবং একজন মেম্বার ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে খাটিয়া তুলে পুনরায় হা্টা শুরু করি। অনভ্যস্থভাবে কয়েক মিনিট হাটার পর এই অবস্থা দেখে আরো কয়েকজন লোক এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। অবশেষে রাত্র ০২.৩০ ঘটিকায় মৃতদেহ এবং আসামীসহ থানায় এসে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করি।ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় পুলিশ সুপার জামালপুর,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল মহোদয়,সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু সংশিলষ্ট সকলকে।

উল্লেখ্য তিনি বিগত ৪ মার্চ বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)হিসেবে যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকেই একেকটি মানবিক কাজ করে সমগ্র উপজেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আর এই মানবিক কর্মকান্ডগুলো পরিচালনার ফলে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারনা একে বারেই পাল্টে দিয়েছেন। তিনি বকশীগঞ্জে যোগদানের পর উপজেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, গ্রাম্য দাঙ্গা রোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সবার দৃষ্টি কেরেছেন খুব সহজেই। যার ফলে উপজেলায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় মাদক বিক্রয়,সেবন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কমে এসেছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ গ্রাম্য দাঙ্গা। আর সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সম্মুখ যোদ্ধা হিসাবে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অসহায় কর্মহীন মানুষকে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ভাবেও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে আছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here