কোন ভাবেই মাদকের ধারে কাছে যাবে না-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন

0
138

সুমন ভৌমিকঃ মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠান ১০ ফ্রেবুয়ারি সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।

এবার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মাদক বিরোধী সচেতনামূলক সমাবেশ এর আয়োজন করা হয়ে গেল। পুলিশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সমাবেশটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন-অর-রশিদ (বিপিএম-সেবা)। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ জালাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভূঁঞা, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা), ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার স্বাগতা ভট্টাচার্য্য।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ব বিদ্যালয় এর প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ব বিদ্যালয় এর রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন-ছাত্রলীগ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ব বিদ্যালয় শাখা’র সাধারন সম্পাদক-রাকিবুল ইসলাম, ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মাদক, জঙ্গি, দুনীর্তি, অপপ্রচার এর বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান। গুরুত্বপূর্ণ এই সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে অতিথিবৃন্দ এবং আলোচকগণ ‘মাদককে না বলেন’ তাদের তথ্যবহুল, প্রাণবন্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।

বিশেষ করে, জাতীয় জরুরী সেবা সার্ভিস ৯৯৯ উদ্ভাবনে সরাসরি জড়িত পুলিশের ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন-অর-রশিদ তার বক্তব্যে এই সেবা উদ্ভাবনের ইতিকথা তুলে ধরেন।
তখন তিনি পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি। পুলিশের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ দেখতেন। সব সময় তার চিন্তা চেতনায় ছিল মানুষের জন্য কি করা যায়? মানুষকে কি ভাবে পুলিশের কাছাকাছি আনা যায়। সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই মোবাইল এ্যাপস বিডি পুলিশ হেল্পলাইন এর যাত্রা শুরু। কিন্তু এতে সমস্যা দেখা দেয়, প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের হাতে স্মার্ট ফোন না থাকা নিয়ে।

এ অবস্থায় যে কোন স্থান থেকে, যে কোন ফোন থেকে যেন পুলিশের সাথে সংযুক্ত হয়ে সেবা নেয়া যায়-সেই চিন্তা থেকেই ৯৯৯ এর গোড়াপত্তন। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা, স্বরাষ্টমন্ত্রী, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও আইজিপি সকলেই এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।

ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন বলেন, আজ যখন গণমাধ্যমে দেখি মানুষ ৯৯৯ এ ফোন করে সেবা পাচ্ছে তখন এর সাফল্যে তিনি ইমোশনাল হয়ে পড়ি। জাতীয় জরুরি সেবার প্রয়োজন ছিল সেটা অনুভব করে ভাল লাগে। তিনি জনান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তার গুরুত্বও ব্যাপক।

ডিআইজির এই বক্তব্য মূলত: জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর প্রচার-প্রসারকেই এগিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে তিনি অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় না দেবার পরামর্শ দিয়ে বলেন-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্ভাবকের মূল চিন্তা ছিল-সভ্য-আধুনিক সমাজের উন্নয়নে আইডিয়া শেয়ার করা। কিন্তু আজকের একটি শ্রেণি সোশ্যাল মিডিয়াকে গুজব প্রচারে ব্যবহার করে। যা সমাজের জন্য অপকার বয়ে আনছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়াতে এর অপব্যবহার চলে। জিহাদের নামে যেন কেউ মিসগাইড করা না হয় সেদিকে সকলকে সর্তক থাকতে হবে। তিনি বলেন-কোন ভাবেই মাদকের ধারে কাছে যাওয়া যাবে না। গুজব-অপপ্রচার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন-শিক্ষার্থীরা হলো দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ। গ্লোবাল সিটিজেনশিপের জন্য প্রতিদ্বদ্বিতা করে টিকে থাকতে হবে। সমাজে পরিবর্তন আনার লোক মেধাবী শিক্ষার্থীরা-অন্য কেউ না।

ডিআইজি হারুন বলেন, স্বাধীন দেশ মর্যাদা সম্পন্ন জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০৪১ সালে দেশ শক্ত অর্থনীতির ভিতের উপর দাঁড়াবে। যার নেতৃত্ব দিবে আজকের মেধাবী প্রজন্ম।

তিনি বলেন, ২০৪১ সালে যারা দেশকে নেতৃত্ব দিবে তাদের মধ্যে হতাশার কোন কারণ দেখি না। হতাশাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। এজন্য নিজেকে জানতে হবে। নিজেকে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে রাখতে হবে। হতাশাকে মানসিক শক্তি দিয়ে রোধ করতে হবে। ডিসিপ্লেন্ড লাইফের মাধ্যমে সফলতার সাক্ষর রাখতে হবে। তিনি বলেন, দৃঢ় প্রত্যয় আর প্রত্যাশার মাধ্যমে নিজেকে আবিস্কার করা সম্ভব। নিজ জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন-আমার ডায়রিতে ‘না’ এবং ‘অসম্ভব’ বলে কোন শব্দ নেই।

তিনি বলেন-‘দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে সচেতন হতে হবে।
মাদক-জঙ্গি-দুর্নীতি বিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বিকাশের উপর জোর দেন। ময়মনসিংহ বিভাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে এসেছে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান সমাবেশ থেকে সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সমাজে মাদক থাকবে না এজন্য সকলকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ জালাল উদ্দিন তার বক্তব্যে নিজ জীবন থেকে উদাহরন টেনে মাদকমুক্ত জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন-মাদকাসক্ত ব্যক্তি ভয়ঙ্কর আতঙ্কের ব্যাপার। জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে মাদকের করুন পরিনতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তিনি মাদক-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-র‌্যাগকে লাল কার্ড ও শিক্ষা-সত্য-সততাকে সবুজ কার্ড দেখাতে বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাছ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, শিক্ষার্থীরা সমাজের সচেতন অংশ। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবে নিজে সচেতন থাকতে হবে, সকলকে সচেতন রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদক-সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি ঘোষনা করেছেন। এক্ষেত্রে দেশে যুগোপযোগী আইন ও আইনের প্রয়োগ আছে। সমাজ বিকাশ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সবার সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বলেন-মাদকসেবীরা রাষ্ট্রের বোঝা। এজন্য সকলকে মাদক পরিহার করতে হবে। মাদকসেবীরা কেউ সমাজে হিরো হতে পারে না।

বিশেষ অতিথি ত্রিশাল সার্কেল এর সহকারি পুলিশ সুপার স্বাগতা ভট্রাচার্য বলেন, যে কোন মূল্যে মাদক সেবন পরিহার করতে হবে। মাদক সেবনকারীরা সমাজে আবর্জনা হিসেবে পরিচিত। মাদক সেবনকারীরা কখনো সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। মুজিব বর্ষে আমাদের অঙ্গীকার হউক “মাদককে না বলুন”।

“মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” মাদক সমাজের জন্য আর্শিবাদ নয়, অভিশাপ। মাদককে না বলুন, এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here