ময়মনসিংহের কুষ্টিয়া ইউনিয়নে ভূমিদস্যুর দখলবাজীর শিকার মসজিদ এর ইমাম হাসমত নিরাপত্তাহীন

0
345

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহ সদরের কুষ্টিয়া ইউনিয়নের চর দড়িকুষ্টিয়া গ্রাম। সেখানে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র অপরের জমি অবৈধভাবে বেদখল করে রাখছে বছরের পর বছর। বেপরোয়া এই ভূমিদস্যরা কোন কিছুই মানে না। থানা- পুলিশ-সামাজিক দেন-দরবার কোন কিছুকেই চক্রটি পরোয়া করে না।

শুধু জমি দখল নয়, জমির মালিকদের চাপের মধ্যে রাখে ভূমিদস্যুরা। নির্যাতন নিপীড়ন হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে কতিপয় জমি মালিক। লাখ লাখ টাকায় কেনা জমির কাওলা, দলিল থাকলেও  অবৈধ্য দখলদাররা তাদের জমিতে নামতে দেয় না। দলিল আছে জমি নাই। কোতোয়ালী মডেল থানায় একাধিকবার জিডি করেও হামলা ও হুমকির শিকার জমির প্রকৃত মালিক রয়েছেন বেকায়দায়। বরং নিরাপওা সংকটের মুখে পড়ে নির্যাতিত এই ইমাম সাহেব গ্রাম ছেড়েছেন। ন্যায্য অধিকার পাওয়ার আশায় তিনি আইনের আশ্রয় চান।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের অন্ততঃ চার জন নিরীহ লোক জমি ক্রয় করেও ভোগদখল করতে পারছে না। হাসমত আলী ও আব্দুল আওয়ালের ক্রয়কৃত সম্পতি বেদখল করে রেখেছে ভূমিদস্যু মন্নাফ-লিটন চক্র। গ্রাম্য সালিশ-দরবারও তারা মানে না। দরবারে অংশ নেয়া এক মুরুব্বী জানান, অন্যের জমি বেদখল করাই ভূমিদস্যুদের স্বভাব। কেউ এদের কিছু করতে পারবে না বলে এরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিদস্যুদের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি করে তাদের কাগজ আছে। কিন্তু দেন-দরবার করা গণ্যমান্য সূত্র জানায়, তারা কাগজ দেখাতে পারে না। অথচ প্রকৃত জমির মালিককে জমিতে নামতেও দেয়া হয় না। এ এক রহস্যজনক ভয়াবহ কান্ড।

জানা যায়, ইতোমধ্যে জনৈক ইমাম হাসমত আলী ৬২ শতাংশ জমির দলিল সম্পাদন করেন। প্রায় ৫ বছর ধরে তার কেনা জমি বেদখল করে রেখেছেন ভূমিদস্যু মন্নাফ ও তার সন্তানরা । অব্যাহত হুমকি, মারধরের ঘটনায় গত ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৩ বার সাধারন ডায়রি করেন জমির মালিক হাসমত আলী।  কোন প্রতিকার পাননি। বরং জিডি করার পর ভূমিদস্যুর সন্ত্রাসী বাহিনী হাসমতের পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং শাবল দিয়ে আঘাত করে। হাসমতের পায়ের নখ তুলে নেয় সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তার কারনে হাসমত এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নেন। সেখানে একটি মসজিদে তিনি ইমামতি করছেন।

জানা যায়, ২০১৫ সালে হাসমত আলী ও আব্দুল আওয়াল একই এলাকায় জনৈকা আমেনা গং এর কাছ থেকে ২ লাখ টাকায় ১২৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তরমধ্যে হাসমত আলী ৬২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন । ময়মনসিংহ সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল নং ২৯৩০ তাং-০৮/০৩/২০১৫ খতিয়ান নং ২১, দাগ নং -৬৮৮ (পুরাতন) ৭০৯৯, ৬২০৪ ( নতুন ), জমি কিনলেও জমির দখল নিতে পারেননি। জমি বর্গা নেবার নামে বেদখল করেন প্রভাবশালী মন্নাফ (৭০)।

জানা যায়, হাসমত আলী ও আব্দুল আওয়াল গত প্রায় ৫ বছরেও জমিতে নামতে পারছেন না। বিক্রেতা আমেনা খাতুন (স্বামী মৃত ফজর আলী) জানান, আমি নিস্কন্টক জমি বিক্রি করেছি, ক্রেতারা জমিতে নামতে না পারলে আমি কি করতে পারি ।

আরো জানা যায়, হাসমত ও আওয়াল ছাড়াও আব্দুল জলিল ও জুব্বারের জমিতে ভূমিদস্যুদের দখলবাজি চলছে । অসহায় জমির মালিকদের শক্তি নাই, লোকবল-অর্থবল নাই, দেন-দরবারের সুযোগ নাই, আইনের কাছে প্রতিকার দাবি করার অবস্থাও নিরাপত্তার প্রশ্নে দুর্বল। তারা রয়েছেন উদ্বেগের মধ্যে। কুষ্ঠিয়ায় মন্নাফ গং এর মতো আরো ভূমিদস্যু রয়েছে। অপর ভূমিদস্যু লিটনের বিরুদ্ধে গত ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি করেন হাসমত আলী।

স্থানীয় ভূমিদস্যুরা জোরামলে অন্যের জমি বেদখল করে রাখছে, আবার কখনো  চাঁদা দাবি করছে, হুমকি দিচ্ছে, মারধর করছে, চলছে নৈরাজ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here