রশিদ-নবীর স্পিন ভেল্কিতে বিপদে বাংলাদেশ

0
155

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বিপদে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আফগানদের দুই স্পিনার রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীর ভেল্কিতে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৯৪ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসেছে টাইগাররা। ফলে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৪৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রান করেছে আফগানিস্তান।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ওপেনার রহমত শাহ’র ১০২ ও আসগর আফগানের অপরাজিত ৮৮ রানের সুবাদে প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৭১ রান করেছিলো আফগানিস্তান। টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে প্রথম সেঞ্চুরি এনে দেন রহমত শাহ। ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৮৭ বলের নিজের ইনিংসটি সাজান রহমত।
প্রথম দিন শেষে আসগর ৮৮ ও উইকেটরক্ষক আফসার জাজাই ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনের ২৪তম বলেই উইকেট তুলে নেন গতকাল টেস্টে ১শতম উইকেট শিকার করা তাইজুল। নাভার্স নাইন্টিতে আসগরকে আউট করেন তাইজুল। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেয়ার আগে ৯২ রান করেন আসগর। ১৭৪ বল মোকাবেলা করে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান আপসগর।
আসগরের পর জাজাইকেও তুলে নেন তাইজুল। বোল্ড হবার আগে ৪১ রান করেন তিনি। দলীয় ২৯৯ রানের মধ্যে গতদিনের দুই সেট ব্যাটসম্যান আসগর ও জাজাই বিদায় নেন। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে ৮১ রান উপহার দেন আসগর-জাজাই।
দলের শেষ দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ছিলেন আসগর-জাজাই। তাই দ্রুতই গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় ছিলো আফগানিস্তান। তবে সেটি হতে দেননি প্রথমবারের মত দলকে ও সবচেয়ে কম বয়সে অধিনায়কত্ব করতে নামা রশিদ খান। স্পিনার রশিদ ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন চমক। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬১ বলে ৫১ রান করেন রশিদ। তিন ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটিই ছিলো তার প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি। তবে অন্যপ্রান্ত দিয়ে আফগানদের উইকেট ঠিকই তুলে নেয় বাংলাদেশের বোলাররা। তারপরও রশিদের নৈপুন্যে ৩৪২ রানের ভালো সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম ১১৬ রানে ৪টি, সাকিব আল হাসান-নাইম হাসান ২টি করে এবং মেহেদি হাসান মিরাজ-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১টি করে উইকেট নেন।
মধ্যাহ্ন-বিরতির ঠিক আগে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ফলে তখনই ব্যাট হাতে নামতে হয় বাংলাদেশকে। নিজেদের ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট পতনের তালিকায় নাম লেখান ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৪ বল মোকাবেলা করে শুন্য রানে ফিরেন সাদমান।
আফগানিস্তানের ডান-হাতি পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই’র বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাদমান। ৪ ম্যাচ ৬ ইনিংসের টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথম শুন্য রানে আউট হলেন তিনি।
সাদমানের আউটের পর ক্রিজে আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারের সঙ্গী হন লিটন দাস। পরবর্তীতে সর্তকতার সাথে খেলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যান সৌম্য-লিটন। কোন বিপদ ঘটতে দেননি তারা। এসময় বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ৪ ওভারে ১ উইকেটে ১ রান। সৌম্য শুন্য ও লিটন ১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
মধ্যাহ্ন-বিরতি শেষে ব্যাট হাতে ভালোই খেলছিলেন সৌম্য-লিটন। রানের চাকা সচল করেছিলেন তারা। বড় হচ্ছিলো বাংলাদেশের স্কোর। এমন সময় বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানেন আফগানিস্তানের স্পিনার মোহাম্মদ নবী। ১৭ রান করা সৌম্যকে লেগ বিফোর ফাঁেদ ফেলেন তিনি। এই জুটি ৩৮ রান যোগ করেন।
সৌম্যর সঙ্গী লিটন নিজের ইনিংসটা বড় করছিলেন। কিন্তু লিটনকে বেশি দূর যেতে দিলেন না রশিদ খান। ৩৩ রানে থাকা লিটনের উইকেট উপড়ে ফেলেন রশিদ।
দলীয় ৫৪ রানে লিটনের বিদায়ের পর সাকিবকে নিয়ে দলের হাল ধরেন চার নম্বরে খেলতে নামা মোমিনুল হক। আফগানিস্তানের বোলারদের সামলে রয়েসয়ে এগোচ্ছিলেন তারা। এতে এই জুটিতে শতরানে পৌঁছানোর পথে হাটতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু আবারো বাংলাদেশের বড় জুটি গড়ার পথে বাঁধা হয়ে দাড়ান আফগান অধিনায়ক রশিদ। যেমনটা হয়েছিলেন সৌম্য-লিটনের বেলাতে। এবার সাকিবকে শিকার করে মোমিনুলের সাথে ৩৪ রানের জুটি ভাঙ্গেন রশিদ। ১১ রান করে লেগ বিফোর হন সাকিব।
দলীয় ৮৮ রানে সাকিবের আউটের পর ১০৪ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দু’টিই ছিলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মিডল-অর্ডারের প্রধান দুই ভরসা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাকিবের মত মুশফিক-মাহমুদুল্লাহকেও শিকার করেন রশিদ। মুশফিক রানের খাতা খুলতেই পারেননি। আর মাহমুদুল্লাহ করেন ৭ রান। তাই ১০৪ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় পুরো ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা।
তারপরও আশার আলো জ্বলে ছিলো মোমিনুল ক্রিজে থাকায়। কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির পর এলোমেলো হয়ে গেলেন মোমিনুল। নামের পাশে ৫২ রান রেখে নবীর বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তিনি। তার ৭১ বলের ইনিংসে ৮টি চার ছিলো।
মোমিনুলের পর বিদায় নেন টেল-এন্ডার পজিশনে ভালো ব্যাট করতে পারা মিরাজ। কিন্তু প্রয়োজনীয় সময় ১১ রানে থামলেন তিনি। তাই ১৪৬ রানে অষ্টম উইকেট হারাতে হয় বাংলাদেশকে। ফলে আজই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু উপরের সারির ব্যাটসম্যানরা যা পারেননি, তা শেষ বিকেলে করে দেখিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল। আফগানিস্তানের স্পিনারদের সামাল দিয়ে বুক উচিয়ে, উইকেটের সাথে সন্ধি করে। ফলে দিন শেষে অবিচ্ছিন্ন থেকে যান। নবম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রান তুলে দিন শেষ করেন তারা। মোসাদ্দেক ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৪ বলে ৪৪ ও তাইজুল ২টি চারে ৫৫ বলে ১৪ রানে অপরাজিত আছেন। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ ৪৭ রানে ৪ উইকেট। নবী ৫৩ বলে ২ উইকেট নেন।
স্কোর কার্ড (টস-আফগানিস্তান) :
আফগানিস্তান : ৩৪২/১০, ১১৭ ওভার (রহমত ১০২, আসগর ৯২, তাইজুল ৪/১১৬)।
বাংলাদেশ : ১৯৪/৮, ৬৭ ওভার (মোমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৪*, রশিদ ৪/৪৭)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here