ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করেছে: স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন

0
174

চীফ রিপোর্টারঃ বন্যার পানিতে সয়লাভ ময়মনসিংহের ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল উজান ঢল থেকে সৃষ্ট আকস্মিক পানির প্রবাহের ফলে ব্রহ্মপুত্র ময়মনসিংহের বেড়ি বাঁধের একাংশ ভেঙ্গে পানি বন্দী এসব এলাকার হজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রানের কার্যক্রম চলছে তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও ময়মনসিংহের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যাক্তিবর্গ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে ত্রান সামগ্রী বিতরন করছে। এছাড়াও পিছিয়ে নেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তাদেরও রয়েছে আপ্রান চেষ্টা ভানবাসি মানুষদের দূর্ভোগে পাশে দাড়ানোর।

এবারের সৃষ্ট বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি তবে এটি স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণে দাঁড়াবে। পানি কমতে শুরু করায় এখন এই অঞ্চলে পানিবাহিত নানান রোগ-শোকে আক্রান্ত মানুষজনের নেই পর্যাপ্ত ঔষুদ ও সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা। পরিমাণ মত খাদ্য নেই গৃহস্তের ঘরে । আছে সুবিশাল পানির প্রবাহ। অপ্রস্তুত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলী জমি,মাছের ঘের । গবাদি পশুও ভেসে গেছে পানির স্রোতে। পানির প্রবাহের সাথে ভেসে গেছে গরিবের আয় উপার্জনের সম্বল।

সরকারি মহল থেকে দুর্গত জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং দুই কোটি ৯৩ লাখ নগদ টাকা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেছেন, আগামি কয়েক দিনের মধ্যে এসব জেলায় ৫০০টি করে তাঁবু এবং মেডিকেল টিমের পৌঁছে যাবে।

সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির এক সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, লাগাতার বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

“আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, তাতে বন্য পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।” এমতাবস্থায় যদি সরকারি সু-দৃষ্টি পোষণ করা না হয় তবে অবস্থা বেগতিক হারে অবনতি হবে। মানবিক বিপর্যয়ে পড়বে সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহের ১২টি ইউনিয়নের কয়েকশত পরিবাররের হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেঁষে অবস্থিত বুরুর চর, চর ঈশ^রদিয়া, সিরতা অঞ্চলের সম্পূর্ন জনপথ এখন পানিপথ হয়ে গেছে। চলার বাহন নৌকা। বন্যা যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে সেক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনাটাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করতে হবে।

এক্ষেত্রে সতর্কতামূলক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত আবশ্যক। ত্রান সামগ্রী বিতরণে সুষ্ঠু নিয়মাবলী মেনে অকাল বন্যার হাত থেকে ভুক্তভোগী জনসাধারণদের উদ্ধার করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here