বিপাশাকে অপহরণকারী জাকারিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত: পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসী চক্র

0
79

উর্মিবাংলা প্রতিদিন রিপোর্টঃ ১৭ জুন আনুমানিক সকাল ১১ টায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ভবানীপুর গ্রামের মো: তাজ উদ্দিন এর কন্যা মোছা: বিপাশা আক্তার (১৭) এসএসসি পাশের প্রশংসাপত্র উত্তোলনের জন্য চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য বাড়ী থেকে বের হলে একই গ্রামের মো: জাকারিয়া হোসেন (২৬) সাঙ্গপাঙ্গসহ অতর্কিতে পথরোধ করে সিএনজিযোগে মুহূর্তের মধ্যে চোখে-মুখে কাপড় দিয়ে বেঁধে তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার ১ দিন পর ১৮ জুন ভিকটিমের ভাই মো: আজিজুল হাকিম একটি সাধারণ ডায়রী দায়ের করেন। অপহৃতার কোন সন্ধান না পেয়ে ২৩ জুন অপহরণ মামলা দায়ের করেন বাদী আজিজুল হাকিম। মামলা নং- ৮৩। ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম তার পুলিশ টিমকে তৎপর করেন।

ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানার মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মো: আজাহারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গত ২৮ জুন রাত আনুমনিক ১১.৩০ টায় অপহৃতাকে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাউসী থেকে অপহরণকারীর আত্মীয়ের বাড়ী থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ । এ সময় অপরহরণকারী জাকারিয়াকেও আটক করেন। আসামির কাছে ২৯.০৬.১৯ তারিখের সরিষাবাড়ী টু ঢাকা বাসের টিকিট পাওয়া যায়। ভিকটিম বিপাশাকে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে রওনা দেয়ার পরিকল্পনা ছিলো বলে মনে করেন এএসআই আজহারুল ইসলাম।

এসআই আজহারুল ইসলাম জানান, বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন ট্রেক করে আসামী’র অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ২৮ জুন জামালপুর পুলিশের সহযোগিতায় ভিকটিম বিপাশা আক্তারকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানায় আনার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মমেক) বিভাগে ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হয়। ভিকটিম নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

তিনি জানান, বিজ্ঞ আদালতে ভিকটিম ও অপরহরণকারীকে সোপর্দ করেন। মামলার ন্যায় বিচারের স্বার্থে ভিকটিমের ২২ ধারায় আদালতের জবানবন্দীর প্রার্থনা করেন। একই সাথে অপহরণকারী জাকারিয়াকে জেলহাজতে প্রেরনের আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার আবেদন গ্রহন করে ভিকটিমের জবানবন্দী গ্রহন শেষে অপহৃতাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেন। অপরহরণকারীকে জেলহাজতে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলার বাদী মো: আজিজুল হাকিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বোন বিপাশা আক্তারকে নানা-রকম অশ্লীল-কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতো। এ জন্য আমার বোন মানসিকভাবেও মারাত্মক অস্বস্তিতে থাকতো। কিছু বুঝে উঠার আগেই এমন ভয়াবহ ঘটনার শিকার হলো আমার বোন। অপহরণকারীর কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এমন ঘটনার ঘটালো এই চক্র।

জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী জাকারিয়ার নামে প্রতারণা করে একাধিক বিয়ের অভিযোগ ছাড়াও থানায় অপকর্মের অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এর আগে সে ২ টি বিয়ে করেছে। ১ম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স ও ২য় স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বিদ্যমান। এলাকায় সংগঠিত হওয়া চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইসহ সকল ধরনের অপকর্মের সাথে জাকারিয়া জড়িত ।

উল্লেখ্য, মামলার বাদী আজিজুল হাকিম গতকাল অভিযোগ করে বলেন, গ্রেফতারকৃত অপহরণকারী জাকারিয়ার লোকজন নানান মাধ্যমে আমাদের পরিবারকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে আমাকে মেরে গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

আজিজুল বলেন, আদালতের কাছে আমরা সুবিচার চাই। আসামি জাকারিয়াসহ তার সাথে জড়িতদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এই সন্ত্রাসী চক্রকে নিমূল করতে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা দাবি করছি।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রকাশ্য দিবালোকে কিশোরী অপহরণের এমন ঘটনায় এলাকাবাসীও আতংকিত। অপহৃতার সহপাঠিরাও ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে , অভিভাবকরাও শংকিত তাদের কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে। তারা এই ঘটনার দৃষ্ট্রান্তমূলক বিচার চেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here